ব্রিটিশ পাউন্ডের ট্রেডের বিশ্লেষণ এবং পরামর্শ
যখন MACD সূচকটি সবেমাত্র শূন্যের নিচে নামতে শুরু করছিল তখন এই পেয়ারের মূল্য 1.3463-এর লেভেল টেস্ট করে, যা পাউন্ড বিক্রি করার সঠিক এন্ট্রি পয়েন্ট হিসেবে নিশ্চিত করেছিল। ফলশ্রুতিতে, এই পেয়ারের 20 পিপস দরপতন ঘটেছে।
যুক্তরাজ্যের শ্রমবাজার সংক্রান্ত প্রতিবেদনের ফলাফল দিনের প্রথমার্ধে পাউন্ডের মূল্য বৃদ্ধিতে সাহায্য করেছিল, কিন্তু পরবর্তীতে মার্কেটের ট্রেডাররা গ্রিনল্যান্ড পরিস্থিতির দিকে মনোযোগ দেওয়ায় সেই প্রভাব ম্লান হয়ে যায়। মনে রাখা উচিত যে যুক্তরাজ্যও দ্বীপটির ওপর মার্কিন দাবির বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছে। প্রাথমিকভাবে এটি তুচ্ছ একটি ভূ-রাজনৈতিক ঘটনা মনে হওয়া সত্ত্বেও দ্রুতই এটি কারেন্সি মার্কেটের মুভমেন্ট নির্ধারণকারী একটি গুরুত্বপূর্ণ উপাদানে পরিণত হয়েছে। সাধারণত অর্থনৈতিক সূচকের উপর দৃষ্টিপাত করে থাকে এমন বিনিয়োগকারীরাও এখন আর্কটিক অঞ্চল থেকে আসা খবরগুলো ঘনিষ্ঠভাবে অনুসরণ করছেন এবং বৈশ্বিক অর্থনীতির উপর এর সম্ভাব্য প্রভাব মূল্যায়ন করার চেষ্টা করছেন। গ্রিনল্যান্ড ইস্যুতে যুক্তরাজ্যের হস্তক্ষেপ অনিশ্চয়তা বাড়িয়েছে এবং মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপের মধ্যে সংঘাতের তীব্রতার বিষয়ে উদ্বেগ আরও তীব্র করেছে। এর আগে মনে হচ্ছিল বাণিজ্য-সংঘাত মূলত শুল্কযুদ্ধের ওপর কেন্দ্রীভূত রয়েছে, কিন্তু এখন বিষয়টিতে ভূখণ্ডীয় দাবি ও রাজনৈতিক হস্তক্ষেপকেও অন্তর্ভুক্ত হয়েছে। এর ফলে মার্কেটের ট্রেডাররা সামগ্রিক ঝুঁকি পুনর্মূল্যায়ন করতে হচ্ছে এবং তারা নিরাপদ বিনিয়োগ খুঁজতে শুরু করেছে, যা অনিবার্যভাবে ব্রিটিশ কারেন্সির এক্সচেঞ্জ রেটের উপর প্রভাব ফেলছে।
সামষ্টিক প্রতিবেদনের বিষয়ে বলতে গেলে, আজ দিনের প্রথমার্ধে যুক্তরাজ্যের ভোক্তা মূল্য সূচক সংক্রান্ত প্রতিবেদন প্রকাশিত হবে। যদি দেশটির মুদ্রাস্ফীতি প্রত্যাশার চেয়ে বেশি হয়, তাহলে তা স্বল্পমেয়াদে পাউন্ডকে সহায়তা দিতে পারে, কারণ এটি ব্যাংক অফ ইংল্যান্ড কর্তৃক আরও কঠোর অবস্থান গ্রহণের কারণ হয়ে দাঁড়াতে পারে। তবে সামগ্রিক অনিশ্চয়তা ও গ্রিনল্যান্ড-সংক্রান্ত ভূ-রাজনৈতিক ঝুঁকির প্রতি বাড়তি মনোযোগের মাঝে বিনিয়োগকারীরা কেবল ব্রিটিশ মুদ্রাস্ফীতি প্রতিবেদনের উপর নির্ভর করে দীর্ঘমেয়াদী সিদ্ধান্ত নেবে বলে মনে হচ্ছে না। বিপরীতভাবে, যদি মুদ্রাস্ফীতির হার পূর্বাভাসের চেয়ে কম হয়, তাহলে পাউন্ড চাপের সম্মুখীন হতে পারে, তবে দরপতনের মাত্রা সীমিত থাকারই সম্ভাবনা রয়েছে।
দৈনিক কৌশলের ক্ষেত্রে আমি মূলত পরিকল্পনা 1 এবং পরিকল্পনা 2 বাস্তবায়নের উপর নির্ভর করব।

বাই সিগন্যাল
পরিকল্পনা 1: আজ পাউন্ডের মূল্য 1.3478-এর (চার্টে গাঢ় সবুজ লাইন) লেভেলে বৃদ্ধির লক্ষ্যে 1.3445-এর (চার্টে হালকা সবুজ লাইন) এন্ট্রি পয়েন্টে পৌঁছালে আমি পাউন্ড কেনার পরিকল্পনা করছি। মূল্য প্রায় 1.3478-এর লেভেলের আশেপাশে পৌঁছালে, আমি লং পজিশন ক্লোজ করতে যাচ্ছি এবং বিপরীত দিকে শর্ট পজিশন ওপেন করতে যাচ্ছি, উল্লিখিত লেভেল থেকে বিপরীত দিকে 30-35 পিপস মুভমেন্টের প্রত্যাশা করছি। আজ যুক্তরাজ্যের মুদ্রাস্ফীতি তীব্রভাবে বৃদ্ধি পেলে পাউন্ডের মূল্য বৃদ্ধির প্রত্যাশা করা যেতে পারে। গুরুত্বপূর্ণ! এই পেয়ার কেনার আগে, নিশ্চিত করুন যে MACD সূচকটি শূন্যের উপরে রয়েছে এবং শূন্যের উপরে উঠতে শুরু করেছে।
পরিকল্পনা 2: MACD সূচকটি ওভারসোল্ড জোনে থাকাকালীন সময়ে মূল্য পরপর দুইবার 1.3430-এর লেভেল টেস্টের ক্ষেত্রেও আমি আজ পাউন্ড কিনতে যাচ্ছি। এটি এই পেয়ারের মূল্যের নিম্নগামী হওয়ার সম্ভাবনাকে সীমিত করবে এবং মূল্যকে বিপরীতমুখী করে ঊর্ধ্বমুখী করবে। 1.3445 এবং 1.3478-এর বিপরীতমুখী লেভেলের দিকে এই পেয়ারের দর বৃদ্ধির প্রত্যাশা করা যেতে পারে।
সেল সিগন্যাল
পরিকল্পনা 1: আজ পাউন্ডের মূল্য 1.3430-এর (চার্টে লাল লাইন) লেভেলে পৌঁছানোর পর আমি পাউন্ড বিক্রি করার পরিকল্পনা করছি, যা GBP/USD-এর দ্রুত দরপতনের দিকে নিয়ে যাবে। বিক্রেতাদের জন্য মূল লক্ষ্যমাত্রা হবে 1.3402-এর লেভেল, যেখানে মূল্য পৌঁছালে আমি শর্ট পজিশন ক্লোজ করতে যাচ্ছি এবং অবিলম্বে বিপরীত দিকে লং পজিশন ওপেন করার পরিকল্পনা করছি, এই লেভেল থেকে বিপরীত দিকে 20-25 পিপস মুভমেন্ট হওয়ার আশা করছি। আজ যুক্তরাজ্যের মুদ্রাস্ফীতি তীব্রভাবে হ্রাস পেলে পাউন্ডের বিক্রেতারা সক্রিয় হতে পারে। গুরুত্বপূর্ণ! বিক্রি করার আগে, নিশ্চিত করুন যে MACD সূচকটি শূন্যের নিচে রয়েছে এবং শূন্যের নিচে নামতে শুরু করেছে।
পরিকল্পনা 2: MACD সূচকটি ওভারবট জোনে থাকাকালীন সময়ে মূল্য পরপর দুইবার 1.3445-এর লেভেল টেস্টের ক্ষেত্রে আমি আজ পাউন্ড বিক্রি করার পরিকল্পনা করছি। এটি এই পেয়ারের মূল্যের ঊর্ধ্বমুখী হওয়ার সম্ভাবনাকে সীমিত করবে এবং মূল্যকে বিপরীতমুখী করে নিম্নমুখী দিকে নিয়ে যাবে। 1.3430 এবং 1.3402-এর বিপরীতমুখী লেভেলের দিকে এই পেয়ারের দরপতনের আশা করা যেতে পারে।

চার্টে কী কী আছে:
- হালকা সবুজ লাইন এন্ট্রি প্রাইস নির্দেশ করে যেখানে এই ট্রেডিং ইন্সট্রুমেন্ট ক্রয় করা যেতে পারে।
- গাঢ় সবুজ লাইনে টেক-প্রফিট (TP) অর্ডার সেট করা যেতে পারে বা এটি ম্যানুয়ালি মুনাফা নির্ধারণ করার জন্য সম্ভাব্য লক্ষ্যমাত্রা নির্দেশ করে, কারণ এই লেভেলের উপরে আরও দর বৃদ্ধির সম্ভাবনা নেই।
- হালকা লাল লাইন এন্ট্রি প্রাইস নির্দেশ করে যেখানে এই ট্রেডিং ইন্সট্রুমেন্ট বিক্রয় করা যেতে পারে।
- গাঢ় লাল লাইনে টেক-প্রফিট (TP) অর্ডার সেট করা যেতে পারে বা এটি ম্যানুয়ালি মুনাফা নির্ধারণ করার জন্য সম্ভাব্য লক্ষ্যমাত্রা হিসেবে কাজ করে, কারণ এই লেভেলের নিচে আরও দরপতনের সম্ভাবনা নেই।
- মার্কেটে এন্ট্রি নেওয়ার সময় ওভারবট এবং ওভারসোল্ড জোন মূল্যায়নের জন্য MACD সূচক ব্যবহার করা উচিত।
নতুন ট্রেডারদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ পরামর্শ:
- নতুন ফরেক্স ট্রেডারদের মার্কেটে এন্ট্রি নেওয়ার ক্ষেত্রে অত্যন্ত সতর্কতা অবলম্বন করা উচিত। মূল্যের তীব্র ওঠানামা এড়ানোর জন্য গুরুত্বপূর্ণ মৌলিক প্রতিবেদন প্রকাশের আগে মার্কেটে এন্ট্রি না করাই উত্তম। যদি আপনি সংবাদ প্রকাশের সময় ট্রেডিং করার সিদ্ধান্ত নেন, তাহলে লোকসানের সম্ভাবনা হ্রাসের জন্য অবশ্যই স্টপ-লস অর্ডার ব্যবহার করুন। স্টপ-লস অর্ডার ছাড়া ট্রেডিং করলে দ্রুত আপনার সম্পূর্ণ ডিপোজিট শেষ হয়ে যেতে পারে, বিশেষত যদি আপনি অর্থ ব্যবস্থাপনার নীতিমালা উপেক্ষা করেন এবং বেশি ভলিউমে ট্রেড করেন।
- মনে রাখবেন, সফল ট্রেডিংয়ের জন্য একটি সুসংগঠিত ট্রেডিং পরিকল্পনা থাকা আবশ্যক, ঠিক যেমনটি উপরে নির্ধারণ করা হয়েছে। বর্তমান বাজার পরিস্থিতির উপর ভিত্তি করে তাৎক্ষণিক সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হলে সেটি দৈনিক ভিত্তিতে ট্রেড করা ট্রেডারদের জন্য লোকসানের কারণ হয়ে দাঁড়াতে পারে।
