logo

FX.co ★ ২৩ জুন কীভাবে GBP/USD পেয়ারের ট্রেডিং করবেন? নতুন ট্রেডারদের জন্য ট্রেডিংয়ের সহজ পরামর্শ ও বিশ্লেষণ

২৩ জুন কীভাবে GBP/USD পেয়ারের ট্রেডিং করবেন? নতুন ট্রেডারদের জন্য ট্রেডিংয়ের সহজ পরামর্শ ও বিশ্লেষণ

সোমবারের ট্রেডিংয়ের বিশ্লেষণ:

GBP/USD পেয়ারের 1-ঘন্টার চার্ট

২৩ জুন কীভাবে GBP/USD পেয়ারের ট্রেডিং করবেন? নতুন ট্রেডারদের জন্য ট্রেডিংয়ের সহজ পরামর্শ ও বিশ্লেষণ

সোমবারের ট্রেডিংয়ে EUR/USD পেয়ারের বিপরীতে GBP/USD পেয়ারের মূল্য সন্তোষজনক বৃদ্ধি প্রদর্শন করেছে। এই দুই প্রধান কারেন্সি পেয়ারের ভিন্ন ধরনের মুভমেন্টের কারণ কী? উত্তরটা বেশ স্পষ্ট। গতকাল জানা যায় যে যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার ইস্তফা দিচ্ছেন। মূলত শেষ দশ বছরে ব্রিটেনে সাতজন প্রধানমন্ত্রী দায়িত্ব পালন করেছেন। খুব সহজেই অনুমান করা যায় যে তাঁদের কেউই পূর্ণ মেয়াদ শেষ করতে পারেননি, যা একটি গঠনগত ও দীর্ঘমেয়াদী রাজনৈতিক সংকটের ইঙ্গিত দেয়। লক্ষণীয় যে 2016 সালে ব্রেক্সিটের পর থেকেই এই সংকট শুরু হয়েছে। ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রীর পদত্যাগের সংবাদে মার্কেটে ইতিবাচক প্রতিক্রিয়া দেখা গিয়েছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন স্টারমারের সরকার লক্ষ্য অর্জনে ব্যর্থ হয়েছে, ভোটারদের আস্থা হারিয়েছে এবং মোটের ওপর কনজার্ভেটিভদের 14 বছরের শাসনের পরে রেখে যাওয়া সমস্যাগুলো সমাধান করতে পারেনি। তবু গ্রেট ব্রিটেনে ক্ষমতার পরিবর্তনকে ট্রেডাররা স্বাগত জানিয়েছে। ব্রিটিশ পাউন্ডের মূল্যের সামগ্রিক নিম্নমুখী প্রবণতা বজায় আছে, তাই আপাতত কেবল একটি কারেকশনের ওপরই নির্ভর করা যেতে পারে।

GBP/USD পেয়ারের 5M চার্ট

২৩ জুন কীভাবে GBP/USD পেয়ারের ট্রেডিং করবেন? নতুন ট্রেডারদের জন্য ট্রেডিংয়ের সহজ পরামর্শ ও বিশ্লেষণ

সোমবার 5-মিনিটের টাইমফ্রেমে দুটি ট্রেডিং সিগন্যাল গঠিত হয়। ইউরোপীয় ট্রেডিং সেশনে এই পেয়ারের মূল্য 1.3175-1.3180 এরিয়া থেকে ন্যূনতম বিচ্যুতির সাথে বাউন্স করে, যা নতুন ট্রেডারদের সহজেই একটি লং পজিশন ওপেন করার সুযোগ দেয়। মার্কিন সেশনে এই পেয়ারের মূল্য 1.3259-1.3267 এরিয়ায় পৌঁছায়, যার ফলে ট্রেডাররা লং পজিশন থেকে মুনাফা করতে সক্ষম হয় এবং এমনকি শর্ট পজিশন ওপেন করারও সুযোগ পায়। তবে দিনের শেষে মার্কেটে কোনো উল্লেখযোগ্য মুভমেন্ট দেখা যায়নি।

মঙ্গলবার কীভাবে ট্রেডিং করতে হবে:

ঘণ্টাভিত্তিক টাইমফ্রেমে GBP/USD পেয়ারের মূল্য সাইডওয়েজ চ্যানেল থেকে বের হয়ে নিম্নমুখী হয়েছে, তবে আমরা সন্দিহান যে এই দরপতন অব্যাহত থাকবে কিনা। অবশ্য, মার্কিন ডলারের আরও দর বৃদ্ধির জন্য যদি গুরত্বপূর্ণ কোনো কারণ দেখা যায়, তাহলে এমনটা ঘটতে পারে—কিন্তু বর্তমানে এমন কোনো কারণ দেখা যাচ্ছে না। মধ্যপ্রাচ্য সংঘাতের বিষয়টি সম্পূর্ণ না হলেও কিছুটা সমাধান হয়েছে এবং ফেড কেবল চলতি বছরের শেষদিকে সুদের হার বৃদ্ধির সম্ভাবনার ইঙ্গিত দিয়েছে; সেইসাথে যুক্তরাজ্যের রাজনৈতিক সংকট যেন এক নিয়মিত ঘটনায় পরিণত হয়েছে।

মঙ্গলবার, যদি এই পেয়ারের মূল্য 1.3259-1.3267 এরিয়া থেকে বাউন্স করে, তাহলে নতুন ট্রেডাররা শর্ট পজিশন ওপেন করতে পারেন, যেখানে মূল্যের 1.3175-1.3180 এরিয়ার দিকে যাওয়ার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা যেতে পারে। আর যদি এই পেয়ারের মূল্য 1.3259-1.3267 এরিয়ার উপরে কনসোলিডেট করে তাহলে লং পজিশন ওপেন করা যেতে পারে, যেখানে মূল্যের 1.3319-1.3331 এরিয়ার দিকে যাওয়ার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা যেতে পারে।

৫-মিনিটের টাইমফ্রেমে ট্রেডিংয়ের জন্য নিম্নলিখিত লেভেলগুলো বিবেচনা করা যেতে পারে: 1.3175-1.3180, 1.3259-1.3267, 1.3319-1.3331, 1.3380-1.3386, 1.3456-1.3476, 1.3587-1.3598, 1.3631-1.3641, 1.3695, এবং 1.3741-1.3751। মঙ্গলবার যুক্তরাজ্য ও যুক্তরাষ্ট্রে জুন মাসের সার্ভিস ও ম্যানুফ্যাকচারিং সেক্টরের বিজনেস অ্যাক্টিভিটি ইনডেক্স প্রকাশিত হবে। ব্রিটিশ প্রতিবেদনগুলোর ফলাফল মার্কেটে সামান্য প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করতে পারে।

ট্রেডিং সিস্টেমের মূল নিয়মাবলী:

  1. সিগনালের শক্তি: যত দ্রুত একটি সিগন্যাল (রিবাউন্ড বা ব্রেকআউট) গঠিত হয়, সিগন্যালটিকে ততই শক্তিশালী হিসেবে বিবেচনা করা হয়।
  2. ভুল সিগন্যাল: যদি কোনো লেভেলের কাছে দুই বা ততোধিক ভুল ট্রেডিং সিগনাল গঠিত হয়, তাহলে ঐ লেভেল থেকে প্রাপ্ত পরবর্তী সিগন্যালগুলোকে উপেক্ষা করা উচিত।
  3. ফ্ল্যাট মার্কেট: যখন মার্কেটে ফ্ল্যাট মুভমেন্ট দেখা যায়, তখন পেয়ারগুলোতে একাধিক ভুল সিগন্যাল গঠিত হতে পারে অথবা কোনো সিগন্যাল না-ও গঠিত হতে পারে। মার্কেটে ফ্ল্যাট মুভমেন্টের ইঙ্গিত পাওয়ামাত্র ট্রেডিং বন্ধ করে দেওয়াই ভালো।
  4. ট্রেডিংয়ের সময়সূচী: ইউরোপীয় সেশন শুরু থেকে মার্কিন সেশনের মাঝামাঝি সময় পর্যন্ত ট্রেড ওপেন করুন এবং এরপর সকল ট্রেড ম্যানুয়ালি ক্লোজ করে ফেলুন।
  5. MACD সিগন্যাল: ঘণ্টাভিত্তিক টাইমফ্রেমে কেবল সেই MACD সিগন্যালগুলোর ওপর ভিত্তি করে ট্রেড করুন, যেগুলো উচ্চ মাত্রার অস্থিরতা এবং ট্রেন্ডলাইন বা ট্রেন্ড চ্যানেলের মাধ্যমে নিশ্চিত হওয়া প্রবণতা হিসেবে বিবেচিত।
  6. নিকটতম লেভেল: যদি দুটি লেভেল খুব কাছাকাছি (৫–২০ পিপসের মধ্যে) অবস্থিত হয়, তাহলে সেগুলোকে সাপোর্ট বা রেজিস্ট্যান্স জোন হিসেবে বিবেচনা করুন।
  7. স্টপ লস: মূল্য কাঙ্ক্ষিত দিকের দিকে ১৫ পিপস মুভমেন্ট প্রদর্শন করলে, ব্রেকইভেনে স্টপ লস সেট করুন। এতে করে ভুল সিগন্যালের কারণে লোকসানের ঝুঁকি কমে আসে।

চার্টে কী কী রয়েছে:

  • সাপোর্ট ও রেজিস্ট্যান্স লেভেল: এই লেভেলগুলো পজিশন ওপেন বা ক্লোজ করার ক্ষেত্রে লক্ষ্যমাত্রা হিসেবে কাজ করে এবং টেক প্রফিট সেট করার ক্ষেত্রেও উপযোগী।
  • লাল লাইনসমূহ: চ্যানেল বা ট্রেন্ডলাইন, যা বর্তমান প্রবণতা এবং ট্রেডের সম্ভাব্য দিকনির্দেশনা প্রদান করে।
  • MACD ইনডিকেটর (14,22,3): হিস্টোগ্রাম এবং সিগন্যাল লাইন বিশ্লেষণের জন্য একটি অতিরিক্ত ট্রেডিং সিগন্যালের উৎস হিসেবে ব্যবহৃত হয়।

নতুন ট্রেডারদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ তথ্য

গুরুত্বপূর্ণ ইভেন্ট ও প্রতিবেদন: এই তথ্যগুলো অর্থনৈতিক ক্যালেন্ডারে পাওয়া যায় এবং মূল্যের মুভমেন্টে উল্লেখযোগ্য প্রভাব ফেলতে পারে। গুরুত্বপূর্ণ প্রতিবেদন প্রকাশের সময় সতর্কতা অবলম্বন করুন বা মার্কেট থেকে বেরিয়ে আসুন, যাতে হঠাৎ করে মূল্যের রিভার্সাল বা বিপরীতমুখী হওয়ার প্রবণতা এড়ানো যায়।

ফরেক্স ট্রেডিংয়ে নতুন ট্রেডারদের মনে রাখতে হবে প্রতিটি ট্রেড লাভজনক হবে না। দীর্ঘমেয়াদে ট্রেডিংয়ে সফলতা অর্জনের জন্য একটি সুস্পষ্ট কৌশল গ্রহণ এবং সঠিক মানি ম্যানেজমেন্ট অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

* এখানে পোস্ট করা মার্কেট বিশ্লেষণ মানে আপনার সচেতনতা বৃদ্ধি করা, কিন্তু একটি ট্রেড করার নির্দেশনা প্রদান করা নয়
Go to the articles list Go to this author's articles Open trading account