logo

FX.co ★ ২৪ জুন কীভাবে EUR/USD পেয়ারের ট্রেডিং করবেন? নতুন ট্রেডারদের জন্য ট্রেডিংয়ের সহজ পরামর্শ ও বিশ্লেষণ

২৪ জুন কীভাবে EUR/USD পেয়ারের ট্রেডিং করবেন? নতুন ট্রেডারদের জন্য ট্রেডিংয়ের সহজ পরামর্শ ও বিশ্লেষণ

মঙ্গলবারের ট্রেডিংয়ের বিশ্লেষণ:

EUR/USD পেয়ারের 1-ঘন্টার চার্ট

২৪ জুন কীভাবে EUR/USD পেয়ারের ট্রেডিং করবেন? নতুন ট্রেডারদের জন্য ট্রেডিংয়ের সহজ পরামর্শ ও বিশ্লেষণ

গত বুধবার ফেডারেল রিজার্ভের বৈঠকের পর মঙ্গলবারের ট্রেডিংয়ে EUR/USD কারেন্সি পেয়ারের মূল্য আবারও নিম্নমুখী হয়েছে। এই পেয়ারের মূল্যের কোনো তাৎপর্যপূর্ণ কারেকশনও ঘটছে না, যা ইউরোর মূল্যের সম্পূর্ণ নিম্নমুখী প্রবণতা চলমান রয়েছে বলে ইঙ্গিত দেয়। আনুষ্ঠানিকভাবে, গতকাল ট্রেডারদের কাছে ইউরো বিক্রির জন্য কিছু কারণ ছিল। সকালেই জার্মানি ও ইউরোপীয় ইউনিয়নে সার্ভিস ও ম্যানুফ্যাকচারিং খাতের বিজনেস অ্যাক্টিভিটি ইনডেক্স প্রকাশিত হয়, যেখানে প্রায় সবগুলো সূচকের ফলাফল পূর্বাভাস এবং আগের মাসের ফলাফলের তুলনায় দুর্বল ছিল। তথাপি, গত তিন মাস ধরে ট্রেডাররা বেশিরভাগ সামষ্টিক অর্থনৈতিক প্রতিবেদন উপেক্ষা করছে, এবং এক সপ্তাহ ধরে মার্কিন ডলারের দর স্থিতিশীলভাবে বাড়ছে—কোনো কারণ থাকুক বা না থাকুক তা নির্বিশেষে। অনেক বিশ্লেষক মনে করেন ফেড "হকিশ বা কঠোর" অবস্থান গ্রহণ করায় মার্কিন ডলারের দর বাড়ছে; কিন্তু আমরা মনে করি তা সত্য নয়। মার্কিন ডলারের দর কোনো সুনির্দিষ্ট কারণে নয়, বরং ঝুঁকিপূর্ণ অ্যাসেটগুলোর বিদ্যমান নিম্নমুখী প্রবণতার টেকনিক্যাল প্রভাবে বাড়ছে। মনে রাখা উচিত যে ইসিবি দুই সপ্তাহ আগে মূল সুদের হার বাড়িয়েছে—ফেড নয়—এবং তাতে মার্কেটে কোনো প্রতিক্রিয়া চোখে পড়েনি।

EUR/USD পেয়ারের 5M চার্ট

২৪ জুন কীভাবে EUR/USD পেয়ারের ট্রেডিং করবেন? নতুন ট্রেডারদের জন্য ট্রেডিংয়ের সহজ পরামর্শ ও বিশ্লেষণ

মঙ্গলবার 5-মিনিটের টাইমফ্রেমে একটি সেল ট্রেডিং সিগন্যাল গঠিত হয়েছে। ইউরোপীয় ট্রেডিং সেশনে এই পেয়ারের মূল্য 1.1413-এর নিচে কনসোলিডেট করেছে, যার ফলে নতুন ট্রেডাররা শর্ট পজিশন ওপেন করতে পারতেন। দিনের শেষে এই পেয়ারের মূল্য প্রায় 20 পিপ্স কমে যায় এবং রাত্রে মূল্য 1.1354-1.1363 এরিয়ায় পৌঁছায়।

বুধবার কীভাবে ট্রেডিং করতে হবে:

ঘণ্টাভিত্তিক টাইমফ্রেমে পুনরায় এই পেয়ারের মূল্যের নিম্নমুখী প্রবণতা শুরু হয়েছে। ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে চুক্তি স্বাক্ষরিত হওয়ার পর ট্রেডারদের কাছে মার্কিন ডলার ক্রয়ের কারণ কমে গেছে। তবুও ট্রেডাররা এই বিষয়টিকে আমলে না নিয়ে ইউরোর জন্য ইতিবাচক প্রায় সকল কারণ উপেক্ষা করছে। সুতরাং বর্তমানে মার্কিন ডলারের মূল্য বৃদ্ধি পেতে থাকলেও তা কোনো নির্দিষ্ট কারণে ঘটছে না।

বুধবার, যদি এই পেয়ারের মূল্য 1.1354-1.1363 এরিয়ার নিচে স্থিতিশীল থাকে তাহলে নতুন ট্রেডাররা শর্ট পজিশন ওপেন করতে পারেন, যেখানে মূল্যের 1.1292 এরিয়ার দিকে যাওয়ার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা যেতে পারে। আর যদি এই পেয়ারের মূল্য 1.1354-1.1363 এরিয়া থেকে বাউন্স করে তাহলে লং পজিশন ওপেন করা যেতে পারে, যেখানে মূল্যের 1.1413 এরিয়ার দিকে যাওয়ার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা যেতে পারে।

৫-মিনিটের টাইমফ্রেমে, ট্রেডিংয়ের জন্য নিম্নলিখিত লেভেলগুলো বিবেচনা করা উচিত: 1.1292, 1.1354-1.1363, 1.1413, 1.1455-1.1474, 1.1527-1.1531, 1.1584-1.1594, 1.1655-1.1666, 1.1745-1.1754, and 1.1830-1.1837। বুধবার জার্মানিতে বিজনেস ক্লাইমেট ইনডেক্স প্রকাশিত হবে এবং মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে নতুন আবাসন বিক্রয় সংক্রান্ত প্রতিবেদন প্রকাশ করা হবে। উভয় প্রতিবেদনই বেশ স্বল্প গুরুত্বসম্পন্ন ও ট্রেডারদের জন্য খুব একটা তাৎপর্যপূর্ণ নয়—বিশেষত এমন এক সময়ে যখন ট্রেডাররা এক সপ্তাহ ধরে ক্রমাগত মার্কিন ডলার ক্রয় করে যাচ্ছে।

ট্রেডিং সিস্টেমের মূল নিয়মাবলী:

  1. সিগনালের শক্তি: যত দ্রুত একটি সিগন্যাল (রিবাউন্ড বা ব্রেকআউট) গঠিত হয়, সিগন্যালটিকে ততই শক্তিশালী হিসেবে বিবেচনা করা হয়।
  2. ভুল সিগন্যাল: যদি কোনো লেভেলের কাছে দুই বা ততোধিক ভুল ট্রেডিং সিগনাল গঠিত হয়, তাহলে ঐ লেভেল থেকে প্রাপ্ত পরবর্তী সিগন্যালগুলোকে উপেক্ষা করা উচিত।
  3. ফ্ল্যাট মার্কেট: যখন মার্কেটে ফ্ল্যাট মুভমেন্ট দেখা যায়, তখন পেয়ারগুলোতে একাধিক ভুল সিগন্যাল গঠিত হতে পারে অথবা কোনো সিগন্যাল না-ও গঠিত হতে পারে। মার্কেটে ফ্ল্যাট মুভমেন্টের ইঙ্গিত পাওয়ামাত্র ট্রেডিং বন্ধ করে দেওয়াই ভালো।
  4. ট্রেডিংয়ের সময়সূচী: ইউরোপীয় সেশন শুরু থেকে মার্কিন সেশনের মাঝামাঝি সময় পর্যন্ত ট্রেড ওপেন করুন এবং এরপর সকল ট্রেড ম্যানুয়ালি ক্লোজ করে ফেলুন।
  5. MACD সিগন্যাল: ঘণ্টাভিত্তিক টাইমফ্রেমে কেবল সেই MACD সিগন্যালগুলোর ওপর ভিত্তি করে ট্রেড করুন, যেগুলো উচ্চ মাত্রার অস্থিরতা এবং ট্রেন্ডলাইন বা ট্রেন্ড চ্যানেলের মাধ্যমে নিশ্চিত হওয়া প্রবণতা হিসেবে বিবেচিত।
  6. নিকটতম লেভেল: যদি দুটি লেভেল খুব কাছাকাছি (৫–২০ পিপসের মধ্যে) অবস্থিত হয়, তাহলে সেগুলোকে সাপোর্ট বা রেজিস্ট্যান্স জোন হিসেবে বিবেচনা করুন।
  7. স্টপ লস: মূল্য কাঙ্ক্ষিত দিকের দিকে ১৫ পিপস মুভমেন্ট প্রদর্শন করলে, ব্রেকইভেনে স্টপ লস সেট করুন। এতে করে ভুল সিগন্যালের কারণে লোকসানের ঝুঁকি কমে আসে।

চার্টে কী কী রয়েছে:

  • সাপোর্ট ও রেজিস্ট্যান্স লেভেল: এই লেভেলগুলো পজিশন ওপেন বা ক্লোজ করার ক্ষেত্রে লক্ষ্যমাত্রা হিসেবে কাজ করে এবং টেক প্রফিট সেট করার ক্ষেত্রেও উপযোগী।
  • লাল লাইনসমূহ: চ্যানেল বা ট্রেন্ডলাইন, যা বর্তমান প্রবণতা এবং ট্রেডের সম্ভাব্য দিকনির্দেশনা প্রদান করে।
  • MACD ইনডিকেটর (14,22,3): হিস্টোগ্রাম এবং সিগন্যাল লাইন বিশ্লেষণের জন্য একটি অতিরিক্ত ট্রেডিং সিগন্যালের উৎস হিসেবে ব্যবহৃত হয়।

নতুন ট্রেডারদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ তথ্য

গুরুত্বপূর্ণ ইভেন্ট ও প্রতিবেদন: এই তথ্যগুলো অর্থনৈতিক ক্যালেন্ডারে পাওয়া যায় এবং মূল্যের মুভমেন্টে উল্লেখযোগ্য প্রভাব ফেলতে পারে। গুরুত্বপূর্ণ প্রতিবেদন প্রকাশের সময় সতর্কতা অবলম্বন করুন বা মার্কেট থেকে বেরিয়ে আসুন, যাতে হঠাৎ করে মূল্যের রিভার্সাল বা বিপরীতমুখী হওয়ার প্রবণতা এড়ানো যায়।

ফরেক্স ট্রেডিংয়ে নতুন ট্রেডারদের মনে রাখতে হবে প্রতিটি ট্রেড লাভজনক হবে না। দীর্ঘমেয়াদে ট্রেডিংয়ে সফলতা অর্জনের জন্য একটি সুস্পষ্ট কৌশল গ্রহণ এবং সঠিক মানি ম্যানেজমেন্ট অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

* এখানে পোস্ট করা মার্কেট বিশ্লেষণ মানে আপনার সচেতনতা বৃদ্ধি করা, কিন্তু একটি ট্রেড করার নির্দেশনা প্রদান করা নয়
Go to the articles list Go to this author's articles Open trading account