
বুধবার কারেকশনের অংশ হিসেবে রুপার (XAG/USD) মূল্যের নিম্নমুখী প্রবণতা অব্যাহত ছিল এবং প্রতি আউন্স $60-এর নিচে নেমে এসেছে। সর্বশেষ ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে রূপার মূল্য এই লেভেলে পৌঁছেছিল।
যুক্তরাষ্ট্রে মুদ্রানীতি কঠোর করার প্রত্যাশা বৃদ্ধি পাওয়ায় মার্কিন ডলার শক্তিশালী হয়েছে, যার ফলে 'সাদা ধাতু' বা রুপা উল্লেখযোগ্য চাপের মুখে রয়েছে।

সুদের হারের ব্যাপারে ট্রেডারদের প্রত্যাশায় বড় ধরনের পরিবর্তনের মধ্যেই রুপার দরপতন হচ্ছে। ফেডারেল রিজার্ভের সাম্প্রতিক বৈঠকে হকিশ বা কঠোর অবস্থান গ্রহণের ইঙ্গিত পাওয়া গেছে, যা আগামী মাসগুলোতে ঋণ গ্রহণের খরচ আরও বৃদ্ধির বিষয়ে জল্পনা উসকে দিয়েছে। সিএমই ফেডওয়াচের তথ্য অনুযায়ী, বিনিয়োগকারীরা এখন চলতি বছরের শেষ নাগাদ সুদের হার বৃদ্ধির উচ্চ সম্ভাবনার বিষয়টি বিবেচনায় নিচ্ছেন।
এই পরিস্থিতিতে মার্কিন ডলার শক্তিশালী হয়েছে; মার্কিন ডলারের এই শক্তিশালী অবস্থান আমেরিকান মুদ্রায় মূল্যায়িত মূল্যবান ধাতুগুলোর ওপর চাপ সৃষ্টি করছে। মার্কিন ডলার শক্তিশালী হওয়ার কারণে বিদেশি ক্রেতাদের কাছে রুপা ক্রয় ব্যয়বহুল হয়ে পড়েছে, অন্যদিকে উচ্চ সুদের হারের কারণে রুপার মতো অ্যাসেটের আকর্ষণ কমে গেছে—যা থেকে কোনো নিয়মিত সুদ বা আয় আসে না।
পাশাপাশি, বর্তমানে মুদ্রাস্ফীতি বৃদ্ধির ঝুঁকির মধ্যে বিনিয়োগকারীরা তাদের প্রত্যাশা পুনর্বিন্যাস করায় মার্কিন ট্রেজারি বন্ডের ইয়েল্ড বা লভ্যাংশ বেড়েছে। জ্বালানির উচ্চমূল্য এবং মার্কিন অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা নিয়ে উদ্বেগের কারণে মুদ্রানীতি নমনীয়করণের প্রক্রিয়া শীঘ্রই শুরু হওয়ার প্রত্যাশা কমে গেছে।
মার্কেটের সংশ্লিষ্ট ট্রেডাররা এখন বৃহস্পতিবার প্রকাশিতব্য পিসিই সূচকের দিকে নজর দিচ্ছেন। যদি মুদ্রাস্ফীতির হার প্রত্যাশার চেয়ে বেশি বৃদ্ধি পাওয়ার ইঙ্গিত পাওয়া যায়, তবে তা মুদ্রানীতি আরও কঠোর করার সম্ভাবনাকে জোরালো করতে পারে এবং রুপার ওপর চাপ বাড়াতে পারে। বিপরীতভাবে, মুদ্রাস্ফীতির হার যদি প্রত্যাশার চেয়ে কম থাকার বা সহনীয় পর্যায়ে থাকার ইঙ্গিত পাওয়া যায়, তবে তা মূল্যবান ধাতুগুলোকে কিছুটা সহায়তা করতে পারে এবং সাম্প্রতিক দরপতনের পর মূল্য স্থিতিশীল করতে সাহায্য করতে পারে।
টেকনিক্যাল দৃষ্টিকোণ অনুযায়ী, সম্প্রতি রূপার মূল্য 200-ডে EMA এবং SMA) অতিক্রম করতে ব্যর্থ হওয়ায় মার্কেট বিক্রেতাদের নিয়ন্ত্রণেই রয়েছে। এছাড়া, অসিলেটরগুলো নেগেটিভ জোনে থাকায় তা আবারও মার্কেটে বিক্রেতাদের আধিপত্যকেই নিশ্চিত করছে। তবে, রিলেটিভ স্ট্রেংথ ইনডেক্স (RSI) 'ওভারসোল্ড' জোনে প্রবেশ করেছে, যা সম্ভাব্য 'কারেকশনের' ইঙ্গিত দিচ্ছে। মার্কেটে ক্রেতাদের ওপর থেকে চাপ কমাতে হলে রূপার মূল্যকে আবারও এই গুরুত্বপূর্ণ মুভিং এভারেজগুলো অতিক্রম করার চেষ্টা করতে হবে।
