logo

FX.co ★ ট্রাম্প কূটনৈতিক পদক্ষেপের নেয়ার জন্য সময় দিয়েছেন

ট্রাম্প কূটনৈতিক পদক্ষেপের নেয়ার জন্য সময় দিয়েছেন

আজ জ্বালানি তেলের উল্লেখযোগ্য দরপতন ঘটেছে। ব্রেন্ট ক্রুড গ্রেডের জ্বালানি তেলের মূল্য 3%-এরও বেশি হ্রাস পেয়ে প্রতি ব্যারেল $110-এরও নিচে নেমে এসেছে, যার ফলে শুক্রবারের অর্জিত মূল্যবৃদ্ধি পুরোপুরিভাবে মিলিয়ে গিয়েছে; অন্যদিকে, ডব্লিউটিআই-এর দর $101-এর নিচে নেমে গেছে।

ট্রাম্প কূটনৈতিক পদক্ষেপের নেয়ার জন্য সময় দিয়েছেন

অ্যাক্সিওস-এর একটি প্রতিবেদন প্রকাশের পর এই পরিস্থিতির সূত্রপাত হয়েছিল, যেখানে বলা হয় যে ডোনাল্ড ট্রাম্প বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুকে এক টেলিফোন আলাপে জানিয়েছেন, মঙ্গলবারের মধ্যবর্তী নির্বাচনের পর ইরানের ওপর পুনরায় হামলা চালানোর বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে তিনি কূটনৈতিক প্রচেষ্টাকে আরও কিছুটা সময় দিতে চান। সংবাদমাধ্যমটির ভাষ্যমতে, এই কৌশল ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রীকে উদ্বিগ্ন করে তুলেছিল। উল্লেখ্য, ফেব্রুয়ারির শেষ দিকে ইরানকে লক্ষ্য করে উভয় দেশের যৌথ হামলার মধ্য দিয়েই এই যুদ্ধের সূচনা হয়েছিল।

পরবর্তীতে, সেক্রেটারি অফ স্টেট মার্কো রুবিও এই খবরের সত্যতা নিশ্চিত করেন। শনিবার তিনি জানান যে, নতুন করে হামলা চালানোর বিষয়ে কোনো সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়নি এবং ট্রাম্প কূটনৈতিক সমাধানের ব্যাপারেই বেশি আগ্রহী। ঘটনাক্রমের এই মোড় জ্বালানি তেল সরবরাহের সঙ্গে যুক্ত ঝুঁকি কিছুটা কমিয়ে দিয়েছে। এর আগে বিশ্লেষকরা এমন একটি পরিস্থিতির আশঙ্কা করছিল যেখানে নির্বাচনের পরপরই যুক্তরাষ্ট্র ইরানে সামরিক অভিযান শুরু করতে পারে; তবে এখন অন্তত সাময়িকভাবে সেই সম্ভাবনা থমকে গেছে। নির্বাচনের আগে এই পরিস্থিতি ভোক্তা এবং রিপাবলিকানদের জন্য সুবিধাজনক, কারণ তেলের মূল্য কম থাকায় জ্বালানির মূল্যের ওপর চাপ কমেছে; অন্যদিকে, রপ্তানিকারক এবং যারা তেলের মূল্য বাড়ার প্রত্যাশায় লং-পজিশন ওপেন করেছেন, তারা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন।

তবে এখনও উদযাপনের সময় আসেনি। ইরানের সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনি কমান্ডারদের যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে নতুন সংঘাতের প্রস্তুতি নিতে নির্দেশ দিয়েছেন—যদিও দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী আলোচনার ক্ষেত্রে অগ্রগতির কথা বলছেন এবং শনিবার কাতারে ইরানের একটি প্রতিনিধি দল মধ্যস্থতাকারীদের সঙ্গে এ বিষয়ে আলোচনা করেছে। উপসাগরীয় দেশগুলোর আশঙ্কা, নতুন কোনো আক্রমণ করা হলে হয়তো আরও ধ্বংসাত্মক এক যুদ্ধের সূত্রপাত হতে পারে, যার পরিণাম তাদের নিজেদেরই ভোগ করতে হবে।

তবে, ফিজিক্যাল মার্কেটে টানাপোড়েন অব্যাহত রয়েছে। পারস্য উপসাগর থেকে অপরিশোধিত তেল রপ্তানির হার যুদ্ধপূর্ব পর্যায়ের কাছাকাছি থাকলেও, পরিশোধিত জ্বালানি পণ্যের সরবরাহ বেশ সীমিত। মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাত এবং রাশিয়ার তেল শোধনাগারগুলোতে ইউক্রেনের তীব্রতর হামলার ফলে জ্বালানির পণ্যের বেড়ে গেছে; বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপে ডিজেলের মূল্য উল্লেখযোগ্য হারে বৃদ্ধি পেয়েছে। এই পরিস্থিতির প্রেক্ষাপটে, সরবরাহ ব্যাহত হওয়ার উচ্চ ঝুঁকির কথা উল্লেখ করে গোল্ডম্যান শ্যাক্স ডিসেম্বর মাসের জন্য ব্রেন্ট ক্রুড গ্রেডের জ্বালানি তেলের মূল্যের পূর্বাভাস বাড়িয়ে $105 করেছে এবং আগামী বছরের জন্য গড় পূর্বাভাস $88-এ উন্নীত করেছে।

এর পাশাপাশি, সেপ্টেম্বর মাসে স্বেচ্ছায় উৎপাদন হ্রাসের মেয়াদ শেষ হওয়ার পর, ওপেকের সদস্য দেশগুলো ডিসেম্বরের জন্য উৎপাদন কোটা অপরিবর্তিত রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। তবে এই সিদ্ধান্তের তাৎপর্য মূলত প্রতীকী; কারণ মধ্যপ্রাচ্যে—বিশেষ করে লোহিত সাগর অঞ্চলে—চলমান সংঘাত এখনো রপ্তানি কার্যক্রম ও অবকাঠামোর জন্য হুমকি হয়ে রয়েছে।

আমার ধারণা, জ্বালানি তেলের মূল্য $110 নিচে দাম নেমে এলেও তা দীর্ঘমেয়াদে সেখানে অবস্থান করবে না। নির্বাচনের আগে কূটনৈতিক সংকেতগুলোর কারণে জ্বালানি তেল চাপের মুখে থাকতে পারে, তবে পরিশোধিত জ্বালানির প্রকৃত ঘাটতি এবং নতুন করে ধর্মঘটের ঝুঁকির প্রেক্ষাপটে পরিস্থিতি বদলে যাওয়ার (অর্থাৎ জ্বালানি তেলের দরপতনের প্রবণতা স্থায়ী হওয়ার) কোনো অবকাশ নেই। নির্বাচনের পর ট্রাম্প যদি পুনরায় সামরিক পদক্ষেপের পথে ফিরে যান অথবা হরমুজ প্রণালীর আশেপাশে জাহাজের ওপর হামলা অব্যাহত থাকে, তবে আমার মতে, ব্রেন্ট ক্রুডের মূল্য দ্রুত $115-এর উপরে উঠে আসবে। জ্বালানি তেলের মূল্য আরও উল্লেখযোগ্যভাবে কমে আসার সম্ভাবনা কেবল তখনই তৈরি হতে পারে, যদি যুদ্ধবিরতির ব্যাপারে সুনির্দিষ্ট কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হয়; অথচ এখন পর্যন্ত এমন কোনো ইঙ্গিত পাওয়া যায়নি।

ট্রাম্প কূটনৈতিক পদক্ষেপের নেয়ার জন্য সময় দিয়েছেন

জ্বালানি তেলের মূল্যের বর্তমান টেকনিক্যাল চিত্র অনুযায়ী, ক্রেতাদের জ্বালানি তেলের মূল্যকে নিকটস্থ রেজিস্ট্যান্স $101-এ নিয়ে যেতে হবে। এতে করে জ্বালানি তেলের মূল্যের $105-এর লক্ষ্যমাত্রার দিকে যাওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হবে, যা ব্রেক করে ঊর্ধ্বমুখী হওয়া বিশেষভাবে চ্যালেঞ্জিং হবে। পরবর্তী লক্ষ্যমাত্রা হিসেবে $109 এরিয়া নির্ধারণ করা যেতে পারে। যদি তেলের দরপতন হয়, তাহলে মূল্য $98-এ থাকা অবস্থায় বিক্রেতারা মার্কেটের নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার চেষ্টা করবে। তারা সফল হলে এই রেঞ্জ ব্রেক করে মূল্য নিম্নমুখী হলে সেটি বুলিশ পজিশনের উপর উল্লেখযোগ্য আঘাত হিসেবে বিবেচিত হবে এবং তেলের মূল্য $95 পর্যন্ত নেমে যেতে পারে, যেখানে পরবর্তীতে $92 পর্যন্ত দরপতনের সম্ভাবনাও রয়েছে।

* এখানে পোস্ট করা মার্কেট বিশ্লেষণ মানে আপনার সচেতনতা বৃদ্ধি করা, কিন্তু একটি ট্রেড করার নির্দেশনা প্রদান করা নয়
Go to the articles list Go to this author's articles Open trading account